Tuesday, 19 April 2016

সখী

কষ্ট ঢাকবো বলে
আজিকে বার বার মিথ্যে হাসি
তোমায় ভালোবাসি বলে
নয়ন জলে ভাসি।
কমল মালা গাঁথবো বলে
কণ্টকাঘাত সই
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখে 
সুখনিদে মজে রই।
ক্লান্তি হননে তালপাখা দুলায়ে
প্রেমালাপের বেলা
কেশগচোর নাইবা করলে
ভাব নিয়ে করবে খেলা। 
পাতের ভাত ফুরায় 
হাতে লাগে খরান 
আনাড়ি হাতের আহারে
জুড়াইলে অস্থির পরাণ। 
সূর্য ঢালে হাটবো বলে
অবেলায় ঘরে ফিরতি
ভাবি সাব চিমটি কাটি কয়
শিখেছ কবে অতো পিরিতি?
সাঁঝের মোমবাতি নিষ্প্রভ 
তোমারি আচল দোলায়
লুকায়ে বাতাস দিই, তায়
ভাবো, করল কী ভোলায়। 
রঙিন ভুবন সাজে নব রবে
কুসুমকলি ফুটায়ে
কষ্ট আজ ধুলোয় উড়ে
দেখে মোরে লুকায়ে।

Monday, 18 April 2016

স্বত্বা



স্বত্বার সন্ধানে কাঙালের
বিশ্ব ভ্রমণ
গোঁফ-দাড়ি পা ছোঁয়
সাজিয়ে প্রস্তর খন্ডন।
অগ্নি শিখা হাতে লই
ভজনায় প্রাণনাশ
চন্দন কাষ্ঠে দগ্ধ দেহ
নহেতু সর্বনাশ।
অহীবাণি হস্তে বৃদ্ধ
চক্ষুজল ছাড়ি
মেঝে ভিজে লোণা জলে
চাই সুখঘরের পাড়ি।
আকুল পাথার ঘুর্ণন
বিধাতারে কোথা পাই?
মোর মাঝে তোর মাঝে
আছে মিশে সর্বদাই।


স্বাধীন বাংলা 

সবুজ আঁচলে রক্ত ঢেলে
তোমার পতাকা টা এঁকেছি
লক্ষ মায়ের বুক করেছি শুন্য
তোমার বুক ভরিয়েছি।

মায়ের, বোনের অশ্রুতে বহমান
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা
মাগো তুমি আজ মুক্ত
একবার নয়ন তুলে দেখোনা!

নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে স্নিগ্ধতা
তোমার আলোয় পথ চলা
তোমার কোলে নিদ্রা যাবো
ফিরেছি মাগো এবেলা।
ফিরে আয়

চশমাটা আজ ঘোলা হয় বার বার
অনল জ্বালা পোহাই চায়ের পেয়ালায়
ঝুড়ির পথ্য সবে হলো শেষ
মাদুরে পিঠ ঠেকাই নিদ্রায়।


সখি, তবুও তোরে ভালোবাসি
একবার ফিরে দেখ কাঙালেরে
তোর চোখের জলে দিব শেষ নিঃশ্বাস
এ-বেলা একবার ফিরে দেখনা আমায়।

সাধের নাম 'টুনটুনির মা'
হাস্য রসে কভু 'ময়নার মা'
সাধটুকু তোর ফুরিয়ে এলো অবেলায়
তবুও ভালোবাসি তোরে সারা বেলা।

সাঝ এলে মোর শূন্য ঘরে
কখনো এ-রে ও-রে ডেকে বেড়াই
দেখলো কী সখী তোরে।

ফিরে আয় সখী, ফিরে আয়
তোর সাজানো কুঠিরে,
এ দেহে প্রাণ কত রবে আর
দেখবে কে আর খুকিরে।
বাঙালী

নীহারিকা পথে চলা অবোধ শিশুর

ইতিহাস করো খন্ডন
জাতি চষে এক কড়িতে
করে ভ্রক্ষ্মান্ড শাসন।

হাতে চুড়ি পড়া শেখ বাবু
যতনে করে কেশ বিন্যাস,
নিঃশ্বাস হাকি কয়
"আর কটা দিন, যাবো সন্যাস"।

লন্ঠন হাতে করিমের বাপ

ছুটে রাত বিরাত
এই বুঝি তার বর্ষের খোরাক
উড়ে চলে গেলো বিলাত।

ওহে জাতি,ওঠাউ মস্তক

বলো ছাড়ি হুঙ্কার,
মোরা জাতে বাঙালী
নই মাথা নোয়াবার।
নিরুদ্দেশ



হুকোয় অর্থ গলিয়ে খাই

নীলাঞ্জনায় ভালবাসি বলে
খাচা ভাঙা পাখি নিরুদ্দেশ
তোমায় ছোরা কোপেছি ছলে।


চৌকাঠে রোদ পোহাই
গালে গুড় মুড়ি
কাদাজলে ভাঙে ঘড়
জীবন সাজাতে হামাগুড়ি।

শেকলে বাধা তনু
তোমার পরষ যাচে
একমুঠো অশ্রু শুকাই
তোমারি প্রেমের আঁচে।
প্রতীক্ষা


তোমার গাওয়া গান গুলো আজ

হৃদয়ে ক্ষত করে বেড়ায়
তোমার দেয়া কথা গুলো আজ
কর্ণ বিদির্ন করে ফেরায়।

ভাবনাটা আজও তোমায় ঘিরে
স্বপ্ন ভাঙ্গন, তবু বেঁচে থাকা 
সখি, চেয়ে দেখো একবার
এ চোখে তোমারই ছবি আঁকা।


ওগো আভিমানি, কীকরে আছো দূরে
নেবে কতো আর পরীক্ষা?
হাতে হাত রেখে হাটবে আবার 
বালু তীরে করি তোমার প্রতীক্ষা।

অতঃপর আমি

অতঃপর আমি, ফিরেছি
তোমার হাতে মেহেদী সাজাতে
সখের লাল, নীল, সাদা চুড়ি এনেছি
তোমায় পড়াতে।

অতঃপর আমি, তোমায় নিয়ে
চন্দ্রিমাস্নাত রাতে
হাতে হাত রেখে স্বপ্নদেখি
সুখকুঠিরটা গোছাতে।

অতঃপর আমি, তোমার কানের ঝুমকোয়
এক বিন্দু কষ্ট দেখি
আবেগ ঝরা কণ্ঠে বলো
কতকাল তোমার অপেক্ষা করেছি !

অতঃপর আমি, মোমের আলোয়
তোমার রূপ দেখি
মলিন ঠোঁট জিবে ভেজাও
আর আমি, মেঘকেশ শুকী।

আপন

আমায় হত্যা করে ফেলো
সস্থির নিঃশ্বাস চেয়েছি বলে,
বিহঙ্গের ওষ্ঠ চুম্বনে
কষ্ট গিলে গিলে খাই।

সপ্তডিঙ্গি চুড়ায় বসবাস
ছেড়া কাঁথায় ঢাকা দেহ,
চন্দ্র দেখি, আপন করে
সুখরাগ গুন গুন গাই।

আদ্যাবদি সাজানো স্বপ্নে
সখ্যতা তোমারই মৈত্রিত্ব,
দিবারাত কাঁদে মাত্রিজাত
পাপিষ্ঠের সুবুদ্ধি প্রত্যাশায়।


স্বাধীনতা


পথিক, তোমারই পথচেয়ে 
সহস্রের নির্ঘুম রাত পারাপার
রাজপথ পাহাড়ায় ধবলেরা
ছোট গাঁ পুড়ে ছারখার

বড় চাচি কাঁদে পিড়ায় বসে
শূন্য হাতে খোকা তার রণাঙ্গনে
ধবলেরে সব, করবো সাফ
খোকায় তার অটল পণে।

মোর মায় কাঁদে, বেলা হলো
বুকের মাণিক তার ফিরেনি ঘরে
বাবজান কাঁদে পড়ি সিজদায়
ফরিয়াদ, বাপজান আসে যেন ফিরে।

শেষ বেলা ফিরলাম লাল জামায়
মায়ের সবুজ আচলে নিয়েছি ঠাই
আজিকে নিশ্বাসে নিশ্বাসে সুখ
অবেলায় চোখ বুজে পাই।
ভালোবাসা


চশমার আড়ালে ছলছল চোখ
এলো কেশ, উরে বাতাসে
হৃদয়ের গলিতে গলিতে
পাথুরে ঘর ভেঙে চুরমার ।

মুক্ত উজান
ভাসিয়ে নেয় কচুরিপানা
শেকড় নাড়ে, আর
তলা খুঁজে অথৈ জলে ।

তার জন্য বারে বার
হাজারো স্বপ্ন ছাইচাঁপা 
ঘর্মাক্ত দেহে ক্ষণে ক্ষণে
যৌবনের আভাস খোঁজে ।

ভ্রান্তির নেশায় উৎসব 
সূক্ষ্ম সুতোয় ঝুলন্ত আশা
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে অগ্নি ঝড়
মায়াময় স্বরে প্রতিধ্বনি, ভালোবাসার ।
শূন্য সিঁড়িটা

তখন ঘরির কাটায় ঠিক বারোটা
আকাশের চাঁদ একা
মিটি মিটি তারা গুলো 
ছিন্ন আলোকে নিরবে ঝিমোয়।

শূন্য পাথুরে সিঁড়িটা অপেক্ষায়
তোমার আমার গল্প শুনবে বলে,
তবে যে তা হবার নয়
কেননা, তুমি আজ গল্প শুনবেনা।

আমি আর সিঁড়িটা
আজও একা
তোমার অপেক্ষায় নয়
চাঁদটা ডুববে বলে।

জীবনের ভিড়ে অজানায়
হারিয়ে গেলাম ধিরে
তোমার আমার অধ্যায়
ইতিহাস অতলে বিলীন।

কিছু স্মৃতি, আজও
তাড়া করে পিছু
কুঁড়ে কুঁড়ে খায় এ দেহ
ঘুনে ধরা জীবন। 

    শূন্যতা

অসীম শূন্যতা দেখেছ কভু?
বসবাস যার এ-হৃদয়ে
ব্যস্ততায় ভুলে রই সব
চিরে চিরে খায় কলিজা, একাকিত্যে।

শূন্যতায় তোমায় রাখবো কোথায়?
বুক পেতে জায়গাটা দিব
আবছা আলোয় রঙিন স্বপ্ন দেখি
তোমায় নিয়ে।

রামধনু এনে জামা বানিয়ে দিই
এক চিমটি মেঘ এনে কাজল পরাই
এটা সেটা আরও কতো কী!

ক্ষণিকের স্বপ্নগুলো আজ
কিছু অদৃশ্য সুখ
মেঘের আড়ালে লুকোয়
আর, উকি দেয় ক্ষণে ক্ষনে।